FAQs

FAQs

জাতীয় পর্ব ২০১৮

বাংলাদেশ জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ এর শিক্ষার্থীদের জ্যোতির্বিজ্ঞান শিক্ষা মূলক প্রতিযোগিতা । বাংলাদেশ এর অন্যান্য অলিম্পিয়াড এর মতই এটি বাংলাদেশ কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব করে। এই অলিম্পিয়াড নিয়ে সাধারন কিছু প্রশ্নের উত্তর নিচে দেওয়া হল ।

১। কারা এই অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহন করতে পারবে ?

বাংলাদেশ এর শিক্ষার্থী যার বয়স অনুর্ধ্ব ১৯ বছর সে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করতে পারবে । সাধারণত ক্লাস ৬ হতে এইচএসসি পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা আমন্ত্রিত ।

২ । ক্যাটাগরী

৬ষ্ঠ থেকে ৮ম পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্যাটাগরী A
৯ম থেকে এসএসসি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্যাটাগরী B
একাদশ, দ্বাদশ এবং এইচ এস সি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্যাটাগরী C

৩। এই অলিম্পিয়াডের অংশগ্রহনের প্রস্তুতি কিভাবে নিব ?

আমরা আমাদের এই ওয়েবসাইটএ বিস্তারিত একটি পেজ এ প্রস্তুতির বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে বর্ণনা করে রেখেছি । এই পেজে বিস্তারিত How to Prepare for BDOAA

৪। কোথায় এই অলিম্পিয়াড আয়োজিত হবে?

প্রতিবছর আমরা চেষ্টা করব বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রধান শহরে অলিম্পিয়াড আয়োজন করার । ২০১৮ সালে ১০ টি আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছিল । বিভিন্ন বছরের অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ।

 ৫। অলিম্পিয়াডের ধাপগুলো কি কি ?

আঞ্চলিক পর্ব
আঞ্চলিক পর্যায়ে অংশগ্রহন সাপেক্ষে ২০ জন প্রতিযোগী কে নির্বাচিত করা হবে । আঞ্চলিক পর্বের প্রশ্ন হবে বাংলা এবং ইংরেজী মাধ্যমে (প্রয়োজনীয় শব্দ শুধুই ইংরেজীতে দেওয়া থাকবে) ।

জাতীয় পর্ব
ঢাকাতে , আঞ্চলিক পর্যায়ের বিজয়ীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় পর্ব । জাতীয় পর্বের প্রশ্নের মাধ্যম হবে ইংরেজীতে । জাতীয় পর্ব থেকে ২ ক্যাটাগরী মিলে প্রায় ২৫ জন প্রতিযোগীকে জাতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান ক্যাম্প এর জন্য বাছায় করা হবে ।

জাতীয় ক্যাম্প
জাতীয় পর্বের পর ক্যাম্পে প্রতিযোগীদের কয়েকদিন ব্যাপী ট্রেনিং এর ব্যাবস্থা করা হবে । থিওরী ও প্র্যাক্টিকাল বিষয়ে ক্লাস নিবেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ্রহনকারী প্রাক্তন প্রতিযোগী এবং ফিজিক্স/ এস্ট্রোফিজিক্স এ অভিজ্ঞ শিক্ষক/ট্রেইনার । বিভিন্ন ক্লাস, ডিসকাশন, ওয়ার্ক সেশন এর মাধ্যমে জ্যোতির্বিজ্ঞানের খুঁটিনাটি বিষয় শিক্ষাদান সহ বিভিন্ন নোটস প্রদান করা হবে । প্র্যাক্টিকাল সেশনে একদিন আকাশ পর্যবেক্ষন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে । ক্যাম্প শেষে থিওরী এবং প্র্যাক্টিকালের পরীক্ষার মাধ্যমে ৭ জনকে প্রাথমিক ভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য নির্বাচন করা হবে ।

এক্সটেন্ডেড ক্যাম্প ও কর্মশালা
৭ জন কে নিয়ে এর পরে আরও কিছু অনলাইন ক্যাম্প ও কর্মাশালার পর বাছাই করা হবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য চূড়ান্ত ৫ জন শিক্ষার্থী ।

আন্তর্জাতিক পর্ব

প্রতিবছর বিভিন্ন দেশে আয়োজিত হয় এই পর্ব । ২০20 সালের IOAA অনুষ্ঠিত হবে কলাম্বিয়াতে সেপ্টেম্বর মাসে । বাংলাদেশ দল ২ জন অধিনায়ক এবং ৫ জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই পর্ব অংশগ্রহন করবে ।

          IOAA তে অংশগ্রহনের জন্য প্রতিযোগী কে অবশ্যই ২০ বছরের কম বয়সী হতে হবে এবং হাই-স্কুল থাকা লাগবে বা প্রতিযোগিতার বছরে হাইস্কুল শেষ করা হওয়া যাবে । প্রতিটি দেশ সর্বোচ্চ ৫ জন প্রতিযোগী এবং ২ জন “দলনেতা” প্রেরণ করতে পারবে । দল বাছাই প্রত্যেক দেশের নিজস্ব ভাবে সাধারনত   প্রতিযোগিতামূলক হয়ে থাকে । গেস্টটিম এবং অবসারভার হিসেবে একটি দেশ অতিরিক্ত দল সদস্য প্রেরণ করতে পারে তবে তা সেই বছরের আয়োজক দেশের কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কমিটির ইচ্ছার উপরে নির্ভর করবে । প্রত্যেক দেশের টিম লিডার নিয়ে গঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল বোর্ড  যারা গণতান্ত্রিক ভাবে পরীক্ষা এবং অন্যান্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন একজন প্রেসিডেন্ট এবং জেনেরাল সেক্রেটারির তত্ত্ববধানে । আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে টিম লিডার ও প্রতিযোগীরা আলাদা থাকে প্রশ্ন দেখা থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত সব পরীক্ষা শেষ হয় । এই সময় প্রতিযোগীরা সম্পুর্ন ইন্টারনেট মোবাইল যোগাযোগের বাইরে থাকে এবং লোকাল গাইডের তত্ত্ববধানে থাকে ।

৬। পরীক্ষা সংক্রান্ত

এই অলিম্পিয়াডের পরীক্ষায় সায়েন্টিফিক নন প্রোগ্রামেবল ক্যাল্কুলেটর ব্যবহার করা যাবে । প্রশ্নপত্রে প্রয়োজনীয় ধ্রবকের মান দেওয়া থাকবে ।

৬.১। এবারে প্রশ্ন হবে ক্লাস ৬-৮ এর জন্য এক রকম এবং ৯-১২ এর জন্য হবে একরকম ।

৬. ২। প্রশ্ন একই সাথে বাংলা এবং ইংরেজিতে থাকবে ।

৬. ৩। প্রশ্ন এর প্রথম পাতায় শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছে যথা
– প্রশ্ন এর মাঝে ফাকা স্থানে সমাধান লিখতে হবে । যদি কোন প্রশ্নের সমাধান অতিরিক্ত স্থান লাগে তাহলে পরিক্ষার্থী কোন এক ভলিন্টিয়ারের কাছে অতিরিক্ত কাগজ চেয়ে নিতে পারবে । সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজে কোন প্রশ্নের কত নম্বর সমধান করা হয়েছে স্পষ্ট ভাবে লিখতে হবে ।
– প্রশ্নের শেষ সমাধানকৃত মানের চেয়ে কীভাবে সমাধান করা হয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ । কেউ যদি শেষ মান বের করতে নাও পারে বা সময়ের অভাবে মান বসাতে ভুল হয় সেক্ষেত্রে সে অবশ্যই কিছুটা নম্বর পাবে ।
– প্রশ্নের সমধানের যুক্তিযুক্ত অনুমান গ্রহনযোগ্য ।
– অনেক প্রশ্নের শেষ মান বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক একক এর বের করতে হতে পারে । যেমন কিলোমিটার এর জায়গায় জ্যোতির্বিদ্যা একক- Astronomical Unit , এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই মান যে এককে চাওয়া হয়েছে তাই বের করা লাগবে ।

৬. ৪। প্রয়োজনে বিভিন্ন ডায়াগ্রাম আঁকতে হতে পারে যা অবশ্যই স্পষ্ট করে আঁকাতে হবে । কম্পাসের প্রয়োজন হতে পারে ।

৬. ৫। নন- প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে ।

৬.৬। প্রথম পাতায় প্রশ্ন সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সকল একক, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক একক এবং সুত্র দিয়ে দেওয়া হয়েছে । প্রশ্ন সমাধানের প্রত্যকটি মান কাজে লাগবে ।

৬. ৭। প্রশ্নের সাথে [ ] ব্র্যকেট এর ভিতরে প্রশ্নের মান বন্টন দেওয়া হয়েছে । সময় খেয়াল করে বেশী নম্বর পেতে এটি খেয়াল করা উচিত ।

৭। আরও জানতে চাই…

অলিম্পিয়াড নিয়ে আরও যেকোন প্রশ্ন অথবা অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতির সময় যেকোন সমস্যায় সাহায্যের দরকার হলে যোগাযোগ করতে পার আমাদের Facebook Page এ।

**** যেকোনো বিষয়ে পরিবর্তন ও পরিমার্জনের অধিকার অলিম্পিয়াড কতৃপক্ষের নিকট সংরক্ষিত ।

Share this Page